Author

ইমরান রাইহান

Browsing

১. ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২। ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান। সিপাহে সাহাবার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পয়গাম্বরে ইনকিলাব কনফারেন্স। শুরু থেকেই পরিস্থিতি থমথমে। সভাস্থলের পাশেই শিয়াদের ইমামবাড়া। শিয়ারা হুমকি দিয়েছিল, সিপাহে সাহাবার অনুষ্ঠানে শিয়াদের ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। ইরানের শিয়া বিপ্লব নিয়েও চুপ থাকতে হবে। এর অন্যথা হলে তারা আক্রমন করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এশার নামাজের পর মঞ্চে উঠলেন একজন তরুণ আলেম। ত্রিশের কোঠায় বয়স। তিনি সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। শিয়াদের লিখিত…

হাজার বছর আগে… মুসলিম পর্যটক ও ভূগোলবিদরা তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে। তাদের লেখায় তারা তুলে ধরেছিলেন সেসময়কার মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও শহরগুলির বিবরণ। আবু মুহাম্মদ আল হাসান হামদানি, আবুল কাসিম ইবনু হাওকাল, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খোরদাদবেহ, মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ শামসুদ্দিন আল মাকদিসি প্রমুখের লেখায় আমরা পাই সে সময়কার এক নিখুঁত বিবরণ। তারা লিখেছেন, মুসলমানরা তাদের শহরগুলিতে প্রচুর উদ্যান ও নহর নির্মাণ করত। শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত এসব নহর (লেক)। পাশেই থাকতো মনোরম উদ্যান। বিকেল কিংবা অবসরে…

১ ১৮ জানুয়ারী ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ। সেশন কোর্ট চত্বর, লাহোর। দুপুর বারোটা। বিষ্ফোরণের প্রথম ধাক্কাটা কেটে গেছে। চারপাশে বিরাজ করছে অদ্ভুত নীরবতা। মাওলানা আযম তারিক, সিপাহে সাহাবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা, উপুড় হয়ে পড়ে আছেন কোর্টের চত্বরে। তার মাথা ঝিমঝিম করছে, কানে তালা লেগে গেছে। বিস্ফোরণের পর কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। ‘আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে’ ভাবলেন মাওলানা আযম তারিক। অনেক কষ্টে উঠে বসলেন তিনি। বাতাসে এখনো সাদা ধোঁয়া উড়ছে। আশপাশে অনেক মানুষের লাশ পড়ে আছে। একটু দুরেই দেখা যাচ্ছে…

১ ২২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯০ । জং, পাকিস্তান। রাত ৮টা। কাউকে হত্যা করার জন্য রাতের অন্ধকারই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। রিভলবার হাতে চার আততায়ী অপেক্ষা করছে মোক্ষম সময়ের। তারা দাঁড়িয়ে আছে একজন মাওলানার ঘরের সামনে। মহল্লার একজনের বিয়েতে শরিক হওয়ার জন্য মাওলানা ঘর থেকে বের হবেন। আর তখনই হামলা চালানো হবে। ৮ টা পনেরো মিনিট। ৩৮ বছর বয়স্ক মাওলানা ঘর থেকে বের হলেন। তার স্ত্রী দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন তাকে। স্ত্রীকে সালাম জানিয়ে হাঁটা শুরু করলেন তিনি। স্ত্রী দরজা আটকে ঘরে ফিরে…

মৃত্যুর আগে খলিফা মামুনের অসিয়ত ছিল, যেভাবেই হোক বিদ্রোহী বাবাক খুররামিকে শায়েস্তা করতে হবে। মামুন নিজে বহুবছর চেষ্টা করেছেন বাবাককে দমন করতে, কিন্তু তিনি সফল হননি, বরং হারিয়েছেন নিজের বিখ্যাত সেনাপতিদের অনেককে। পরবর্তী খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ শাসনক্ষমতা পেয়েই বাবাকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। ২২২ হিজরির দিকে বাবাক কোণঠাসা হয়ে যায়। সে রোমান সম্রাট তোফাইল বিন মিখাইলকে পত্র লিখে আব্বাসি সাম্রাজ্যে হামলার আহ্বান করে। বাবাকের পত্রের ভাষ্য ছিল এমন–‘খলিফার বাহিনী এখন আমাকে নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগ কাজে…

শাকহাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৭০২ হিজরির ২ রমাদানে। খ্রিস্টিয় হিসেবে সময়টা ছিল ২০ এপ্রিল ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দ। যুদ্ধের পটভূমির সূচনা হয় ৭০২ হিজরির রজব মাসে, যখন হালাব থেকে কায়রোতে একটি পত্র আসে। এই পত্র এসেছিল সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের নামে। পত্রে লেখা ছিল, তাতারসম্রাট মাহমুদ গাযান তার বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন পত্র পড়ে চিন্তিত হলেন। মাহমুদ গাযান তাতার ইলখানাতের সম্রাট। তিন বছর আগে থার্ড ব্যাটল অব হোমসে মামলুক বাহিনী পরাজিত হয়েছিল মাহমুদ গাযানের…

২১ নভেম্বর, ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ। লখনৌর বিখ্যাত পত্রিকা তিলসামে একটি সংবাদ ছাপা হয়। সংবাদটি অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। সংবাদটির ভাষ্য ছিল, সম্প্রতি এখানে আহমাদুল্লাহ শাহ নামে এক ব্যক্তির তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তার পোষাক দরিদ্র সুফীদের মত, কিন্তু চলাফেরা সম্ভ্রান্ত আমীরদের মত। তিনি মুতামিদ্দৌলার সরাইয়ের পাশে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের মাঝে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সপ্তাহে দুয়েকদিন তার আস্তানায় মানুষের বেশ সমাগম হয়। তার মজলিসগুলোও সাধারণ মজলিসের মত হয় না। সেখানে খানিকটা অস্বাভাবিকতার ছাপ দেখা যায়। আপাতদৃষ্টিতে তিলসামে প্রকাশিত সংবাদটি সাধারণ সংবাদ।…

১২ রজব ৪৭৯ হিজরী। ২৩ অক্টোবর, ১০৮৬ খ্রিস্টাব্দ। শুক্রবার। বাদ ফজর। যাল্লাকা ময়দান। বাতাস এখানে স্থির হয়ে আছে। ভ্যপসা গরম লাগছে। ইউসুফ বিন তাশফিন, মুরাবিতীনদের আমীর, কপালের ঘাম মুছলেন। ঘামের সাথে ধূলি মিশে চটচটে হয়ে গেছে। টিলার ওপাড়ে ধূলি উড়ছে। এতদূর থেকে শব্দ শোনা যাওয়ার কথা নয়, তবু ভালোভাবে কান পাতলে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যোদ্ধাদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। টিলার ওপাড়ে, মুতামিদ বিন আব্বাদের বাহিনী লড়ছে ষষ্ঠ আলফোন্সোর বিরুদ্ধে। মুতামিদ বিন আব্বাদের বাহিনীর সাথে আছে ছোট একটি মুরাবিত বাহিনী। মুরাবিতদের মূল…

মাওদুদ বিন তুনিতকিন। ইতিহাসের এক বিস্মৃত বীর। ক্রুসেডের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে যার নাম বলতেই হয়। মাওদুদ বিন তুনিতকিনের আবির্ভাব ঘোর অমানিষার কালে। মুসলিম বিশ্বে তখন হিংস্র থাবা বসিয়েছে ক্রুসেডাররা। — ১৫ জুলাই ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডারদের হাতে বাইতুল মাকদিসের পতন ঘটে। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শহরের বাসিন্দাদের। মাসজিদুল আকসাতে বসানো হয় মদের আসর। উমর মসজিদের বারান্দা ডুবে যায় নিহত মুসলমানদের রক্তে। শহরের প্রাচীর থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয় মুসলিম শিশুদের। গডফ্রে জেরুজালেমের রাজা হল। এরপর ত্রিপোলি ও টায়ার আক্রমন…

এই পর্বে সাইফুদ্দিন কুতুয সম্পর্কে দ্য প্যান্থার গ্রন্থের লেখক যেসব তথ্য দিয়েছেন তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এক নজরে সাইফুদ্দিন কুতুযের জীবনি দেখে নেয়া যাক। সাইফুদ্দিন কুতুয সাইফুদ্দিন কুতুযের প্রকৃত নাম মাহমুদ বিন মামদুদ। তিনি ছিলেন খাওয়ারেজমের সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহের ভাগ্নে। জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহ তাতারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়ে পরাজয় বরণ করেন। এসময় তার পরিবারের বড়দের তাতারীরা হত্যা করে। ছোটদের অনেকের সাথে মাহমুদ বিন মামদুদ বন্দী হন। তার সাহসিকতা ও বীরত্ব দেখে তাতারীরা তার নামকরণ করে…