Category

বুক রিভিউ

Category

এই পর্বে সাইফুদ্দিন কুতুয সম্পর্কে দ্য প্যান্থার গ্রন্থের লেখক যেসব তথ্য দিয়েছেন তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এক নজরে সাইফুদ্দিন কুতুযের জীবনি দেখে নেয়া যাক। সাইফুদ্দিন কুতুয সাইফুদ্দিন কুতুযের প্রকৃত নাম মাহমুদ বিন মামদুদ। তিনি ছিলেন খাওয়ারেজমের সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহের ভাগ্নে। জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহ তাতারীদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়ে পরাজয় বরণ করেন। এসময় তার পরিবারের বড়দের তাতারীরা হত্যা করে। ছোটদের অনেকের সাথে মাহমুদ বিন মামদুদ বন্দী হন। তার সাহসিকতা ও বীরত্ব দেখে তাতারীরা তার নামকরণ করে…

শুরুর কথা দ্য প্যান্থার বইটি প্রকাশের পর থেকেই সংগ্রহের ইচ্ছা ছিল। বাংলা ভাষায় মামলুক সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্সের জীবন নিয়ে এত বিস্তৃত কাজ আগে হয়নি। বইটি সংগ্রহ করবো ভেবেও করা হচ্ছিল না। এদিকে বিভিন্ন সময় পরিচিত অনেককে সাইফুদ্দিন কুতুয, আইনে জালুত ও বাইবার্স সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়াতে দেখি। প্রায় সবার সাথে আলাপ করে দেখি, উনারা দ্যা প্যান্থার বইটি থেকেই এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই বইকে তারা ইতিহাসের আকরগ্রন্থ ভেবে বসে আছেন। বইটি সংগ্রহ করি। পড়তে গিয়ে দেখি লেখক একের পর এক…

লেখক- শাইখ আবদুল্লাহ নাসিহ উলওয়ান অনুবাদক- আশিক আরমান নিলয় সম্পাদনা- সাজিদ ইসলাম প্রকাশক- সমর্পন প্রকাশন পৃষ্ঠা- ১৬৮ মুদ্রিত মূল্য- ২৪২ টাকা। সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী। ইতিহাসের মহানায়ক। মুসলিম উম্মাহর ঘোর অমানিশার কালে সালাহুদ্দিনের আবির্ভাব। মাওদুদ বিন তুনিতকিন, ইমাদুদ্দিন যিংকি ও নুরুদ্দিন যিংকিরা ক্রুসেডারদের মোকাবেলায় যে প্রতিরোধের সূচনা করেছিলেন, সালাহুদ্দিন তা আরো বেগবান করেন। তার হাতেই বাইতুল মুকাদ্দাস পুরনরুদ্ধার হয়। দুঃখের বিষয়, অনেকদিন পর্যন্ত বাংলা ভাষায় সালাহুদ্দিন আইয়ুবীর নির্ভরযোগ্য জীবনি পাওয়া যেত না। একমাত্র পাঠ্য ছিল আলতামাশের ঐতিহাসিক উপন্যাস ঈমানদীপ্ত দাস্তান। যা…

লেখক– শাইখ মুহাম্মদ আল আবদাহ অনুবাদক– মুফতী আব্দুল্লাহ খান প্রকাশক– আল রিহাব পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা–১৭৪ মুদ্রিত মূল্য — ২৫০ টাকা। মাঝেমাঝে এমন কিছু বই হাতে আসে যেগুলো সম্পর্কে অনলাইন বা অফলাইনে খুব কম আলোচনা হয়, অথচ বইগুলো গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ‘সবুজ পৃথিবী ও মুসলমানদের অবদান’ বইটির কথা৷ বিষয়বস্তুর নতুনত্বে ও তথ্যের সমাহারে বইটি অনন্য। কিন্তু এই বই নিয়ে খুব একটা আলোচনা দেখা যায় না৷ ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে কি?’ এই বইটিও আলোচনার আড়ালে থেকে যাওয়া একটি বই৷…

১। বইটি ছোট হলেও তথ্যসমৃদ্ধ। বইয়ের শেষে মুহাম্মদ বিন কাসিম ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কিছু পত্র দেয়া আছে। এসব পত্র সে সময়কার প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলী বুঝতে সাহায্য করবে। ২। পত্রের অংশ বাদ দিলে বাকি অংশে ইসহাক ভাট্টি সাহেবের নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষন নেই। এসব তিনি কাজি আতহার মোবারকপুরীর বিভিন্ন গ্রন্থ (আরব ও হিন্দ আহদে রেসালত মে, ইসলামি হিন্দ কি আযমতে রফতা) থেকে হুবহু তুলে দিয়েছেন। সুতরাং, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ভাট্টি সাহেবের লেখার চাইতে সরাসরি মোবারকপুরীর লেখা পড়াই ভালো।…

এক সময় বই পড়ার পর তা সম্পর্কে দুই এক লাইন ডায়েরিতে লিখে রাখার অভ্যাস ছিল। ডায়েরিতে জমে থাকা এমনই কয়েকটি লেখা ১। তাদবীনে সিয়ার ও মাগাজি– আল্লামা কাজী আতহার মোবারকপুরী র.। বিংশ শতাব্দীতে ভারতে যেকজন মনীষী ইতিহাস চর্চায় অসামান্য অবদান রেখেছেন কাজী আতহার মোবারকপুরী তাদের অন্যতম। প্রচুর খেটে খেটে ইতিহাসের বিভিন্ন দুর্লভ তথ্য একত্র করেছেন তিনি। তার এই বইতে তিনি সিয়ার ও মাগাজি সংকলনের ইতিহাস , মাগাজির কিছু প্রসিদ্ধ কিতাব, হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে হিজরী তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত এই…

(কিছুদিন আগে এক পোস্টে জুরজি যায়দান সম্পর্কে গবেষকদের মূল্যায়ন উদ্ধৃত করেছি। নবপ্রকাশ কর্তৃক প্রকাশিত জুরজির বই ‘ হাজ্জাজ বিন ইউসুফ’ এর ভূমিকাতে জুরজির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। এতে করে জুরজিকে প্রমোট করা হয়েছে। আর তা থেকে সতর্ক করতেই সেই পোস্ট দেই। (পোস্টের লিংক প্রথম কমেন্টে)। সেই পোস্টের পর অনুবাদক এবং নবপ্রকাশ সংশ্লিষ্ট আরো দুয়েকজনের বক্তব্য ছিল, এই বইতে কোনো সমস্যা থাকলে বলুন। অনুবাদক সাহেব এতদূর পর্যন্ত বলেছিলেন, এই বইয়ের তথ্যগুলো নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থ থেকে যাচাই করে নিয়েছি। ভক্তদের কেউ কেউ বলেছিলেন,…

বই: হিন্দুস্তান কী কদীম ইসলামী দরসগাহে লেখক: আবুল হাসানাত নদভী প্রকাশক: দারুল মুসান্নেফিন, শিবলী একাডেমী, আজমগড়, ভারত। প্রকাশকাল : ১৯২২ ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনামল নিয়ে উর্দু ফার্সিতে প্রচুর ইতিহাসগ্রন্থ লেখা হয়েছে। বরাবরের মতোই ইতিহাস রচয়িতাদের ঝোঁক ছিল রাজা বাদশাহদের যুদ্ধ, শিকার আর বিয়েশাদী ইত্যাদীর বর্ণনার দিকেই। ইবনে খালদুন ‘মুকাদ্দিমা’য় যে বিন্যাসের কথা বলেছেন তা ছিলো অনুপস্থিত। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাই আফসোস করে বলেছেন ‘দিল্লীর উপকন্ঠে খেলারত বালকদের কথা ইতিহাস বইতে আছে কিন্তু আলায়ী ও সার্মাদ অনুপস্থিত’ (দ্রষ্টব্য : গুবারে খাতির)…

শুরুর আগের কথা ইসলামী পয়গাম ঈদসংখ্যা পড়ছিলাম। ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে। তাই শুরু করলাম ইশতিয়াক আহমাদের ‘যেভাবে খুন হলেন নিযামুল মুলক’ দিয়ে। সাবলীল লেখা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গতি ধরে রেখেছেন। হোচট খেলাম একেবারে শেষে এসে। লেখক লিখেছেন, লোকটি কাছে আসতেই নিযামুল মুলক দেখলেন, লোকটি হাসান ইবনে সাবা। নিজামুল মুলকের কাছাকাছি আসতেই তার হাতে বেরিয়ে এলো দুধারী খঞ্জর। হাসান ইবনে সাবা নিজামুল মুলককে জাপটে ধরে তার বাম বুকে দুটি এবং গলার কাছে একটি আঘাত করে। মুহূর্তেই ঘটে গেল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক…

মূল : শায়খ আবদুল হাই হাসানি নদভী রুপান্তর : ইমরান রাইহান (প্রথম পর্ব) ভারতবর্ষে বরাবরই ইতিহাসচর্চায় আগ্রহ- উদ্দীপনা ছিল। এখানকার লেখকরা তাই রাজন্যবর্গের শাসনকাল ও তাদের যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস সংরক্ষনে কলম ধরেছেন। তারা আলেম, সুফী, কবি, চিকিৎসকদের জীবনি নিয়েও বইপত্র লিখেছেন, যদিও জন্মতারিখ ও মৃত্যুতারিখ উল্লেখের ক্ষেত্রে তারা বরাবরই উদাসীন ছিলেন। তারা লিখেছেন বেশী ফার্সিতে, হিন্দিতেও কম লিখেন নি, এমনকি লিখেছেন আরবীতেও। এ সকল বইপত্রের এক বিরাট অংশই লেখা হয়েছে শাসকদের জীবনি ও শাসনকাল নিয়ে। চলুন এ ধারার কিছু গ্রন্থের নাম…