Category

পূর্বসূরী

Category

১. ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২। ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান। সিপাহে সাহাবার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পয়গাম্বরে ইনকিলাব কনফারেন্স। শুরু থেকেই পরিস্থিতি থমথমে। সভাস্থলের পাশেই শিয়াদের ইমামবাড়া। শিয়ারা হুমকি দিয়েছিল, সিপাহে সাহাবার অনুষ্ঠানে শিয়াদের ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। ইরানের শিয়া বিপ্লব নিয়েও চুপ থাকতে হবে। এর অন্যথা হলে তারা আক্রমন করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এশার নামাজের পর মঞ্চে উঠলেন একজন তরুণ আলেম। ত্রিশের কোঠায় বয়স। তিনি সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। শিয়াদের লিখিত…

১ ১৮ জানুয়ারী ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ। সেশন কোর্ট চত্বর, লাহোর। দুপুর বারোটা। বিষ্ফোরণের প্রথম ধাক্কাটা কেটে গেছে। চারপাশে বিরাজ করছে অদ্ভুত নীরবতা। মাওলানা আযম তারিক, সিপাহে সাহাবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা, উপুড় হয়ে পড়ে আছেন কোর্টের চত্বরে। তার মাথা ঝিমঝিম করছে, কানে তালা লেগে গেছে। বিস্ফোরণের পর কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। ‘আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে’ ভাবলেন মাওলানা আযম তারিক। অনেক কষ্টে উঠে বসলেন তিনি। বাতাসে এখনো সাদা ধোঁয়া উড়ছে। আশপাশে অনেক মানুষের লাশ পড়ে আছে। একটু দুরেই দেখা যাচ্ছে…

১ ২২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯০ । জং, পাকিস্তান। রাত ৮টা। কাউকে হত্যা করার জন্য রাতের অন্ধকারই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। রিভলবার হাতে চার আততায়ী অপেক্ষা করছে মোক্ষম সময়ের। তারা দাঁড়িয়ে আছে একজন মাওলানার ঘরের সামনে। মহল্লার একজনের বিয়েতে শরিক হওয়ার জন্য মাওলানা ঘর থেকে বের হবেন। আর তখনই হামলা চালানো হবে। ৮ টা পনেরো মিনিট। ৩৮ বছর বয়স্ক মাওলানা ঘর থেকে বের হলেন। তার স্ত্রী দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন তাকে। স্ত্রীকে সালাম জানিয়ে হাঁটা শুরু করলেন তিনি। স্ত্রী দরজা আটকে ঘরে ফিরে…

২১ নভেম্বর, ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ। লখনৌর বিখ্যাত পত্রিকা তিলসামে একটি সংবাদ ছাপা হয়। সংবাদটি অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। সংবাদটির ভাষ্য ছিল, সম্প্রতি এখানে আহমাদুল্লাহ শাহ নামে এক ব্যক্তির তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তার পোষাক দরিদ্র সুফীদের মত, কিন্তু চলাফেরা সম্ভ্রান্ত আমীরদের মত। তিনি মুতামিদ্দৌলার সরাইয়ের পাশে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের মাঝে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সপ্তাহে দুয়েকদিন তার আস্তানায় মানুষের বেশ সমাগম হয়। তার মজলিসগুলোও সাধারণ মজলিসের মত হয় না। সেখানে খানিকটা অস্বাভাবিকতার ছাপ দেখা যায়। আপাতদৃষ্টিতে তিলসামে প্রকাশিত সংবাদটি সাধারণ সংবাদ।…

১২ রজব ৪৭৯ হিজরী। ২৩ অক্টোবর, ১০৮৬ খ্রিস্টাব্দ। শুক্রবার। বাদ ফজর। যাল্লাকা ময়দান। বাতাস এখানে স্থির হয়ে আছে। ভ্যপসা গরম লাগছে। ইউসুফ বিন তাশফিন, মুরাবিতীনদের আমীর, কপালের ঘাম মুছলেন। ঘামের সাথে ধূলি মিশে চটচটে হয়ে গেছে। টিলার ওপাড়ে ধূলি উড়ছে। এতদূর থেকে শব্দ শোনা যাওয়ার কথা নয়, তবু ভালোভাবে কান পাতলে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যোদ্ধাদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। টিলার ওপাড়ে, মুতামিদ বিন আব্বাদের বাহিনী লড়ছে ষষ্ঠ আলফোন্সোর বিরুদ্ধে। মুতামিদ বিন আব্বাদের বাহিনীর সাথে আছে ছোট একটি মুরাবিত বাহিনী। মুরাবিতদের মূল…

মিসরের উবাইদি (১) শাসক আবু তামিম সাদ রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে আছে। তার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে বিশিষ্ট আলেম মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন সাহল রমালিকে। আবু তামিমের কাছে সংবাদ এসেছে এই আলেম উবাইদি শাসনের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে। ‘আমার কাছে সংবাদ এসেছে , আপনি নাকি সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন, যদি আপনার কাছে ১০টি তীর থাকে তাহলে আপনি একটি রোমানদের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করবেন, আর নয়টি আমাদের বিরুদ্ধে নিক্ষেপ করবেন। এটা সত্য?’ আবু তামিম প্রশ্ন করলো। ‘না , আমি এমন কথা বলিনি’ শায়খ…

৯৬ হিজরীতে কুতাইবা বিন মুসলিম সিদ্ধান্ত নেন তিনি চীনে হামলা করবেন। তিনি মার্ভ থেকে সেনাবাহিনী নিয়ে রওনা হন। ফারগানা পৌছে তিনি সেখান থেকে কাশগড় পর্যন্ত পাহাড়ি পথ সমতল করেন। অভিজ্ঞ সেনাপতি কাসিরকে পাঠান কাশগড়ে হামলা করার জন্য। কাশগড় চীনের সীমান্ত শহর।কাসির এই শহর জয় করেন। এরপর তিনি চীনের ভেতরে প্রবেশ করেন। চীনের সম্রাট মুসলমানদের লাগাতার হামলায় ভয় পেয়ে যায়। তিনি কুতাইবার কাছে পত্র লিখে বলেন , আমার কাছে আপনাদের কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে প্রেরণ করুন যেন আপনাদের উদ্দেশ্য ও আপনাদের ধর্ম…

৬১৮ হিজরী। সমরকন্দ থেকে ধেয়ে আসছে চেঙ্গিজ খানের বাহিনী। উদ্দেশ্য খাওয়ারেজম সাম্রাজ্যের রাজধানী (বর্তমান উজবেকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত আরজেঞ্চ শহর) আক্রমন করা। সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহ জিহাদের ডাক দেন। অল্পদিনেই একটি বাহিনী গঠিত হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল, এই সময়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠে। কুতলুগ খান নামে একজন আমির সুলতানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাতে থাকে। সে সুলতানের ভাই কুতবুদ্দিনকে প্ররোচনা দিয়ে বলে, আপনিই এই সাম্রাজ্যের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। জালালুদ্দিন অন্যায়ভাবে আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। আপনি নিজের সম্মান বুঝে নিন। পুরো শহরে এই…

বাগ নিলাব। পাঞ্জাবের আটক জেলার ছোট একটি গ্রাম। সিন্ধু নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রাম স্থানীয় পর্যটকদের কাছে একটি দর্শনীয় স্থান। পুরো এলাকাটি সবুজ শ্যামল। বিস্তৃর্ণ মাঠ। স্থানীয় কিশোররা এখানে প্রায়ই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলে। কিন্তু তাদের অনেকের জানা নেই, আটশো বছর আগে এখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহ। বাগ নিলাব বরাবর সিন্ধু নদীর অপরপ্রান্তে , ৬১৮ হিজরীর ৬ শাউয়ালে (২৪ নভেম্বর, ১২২১ খ্রিস্টাব্দ) চেঙ্গিজ খানের মুখোমুখি হন সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারেজম শাহ। সুলতান গজনী থেকে ভারতবর্ষের দিকে এগিয়ে আসছিলেন। ইচ্ছা ছিল…

দামেশক। ৯৯ হিজরি। একজন নারীর জন্য তার স্বামীর উন্নতি ও মর্যাদা প্রাপ্তি পরম আনন্দের বিষয়৷ এমনই এক মুহুর্ত উপস্থিত ফাতেমা বিন্তু আবদুল মালিকের সামনে৷ ১৪ বছরের বৈবাহিক জীবনে এমন সময় আর আসেনি৷ এমন এক সৌভাগ্যের হাতছানি এসেছে যা খুব কম নারীর ভাগ্যেই জুটে৷ শীঘ্রই মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসেবে বাইয়াত নিবেন তাঁর স্বামী। ইতিমধ্যেই শহরে কেমন একটা সাড়া পড়ে গেছে। অনেক স্মৃতি মনে আসছে তার। ১৪ বছর আগে এক সকালে তাঁর পিতা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান বসেছিলেন এক সুদর্শন তরুনের সামনে।…