Category

ইতিহাস

Category

হাজার বছর আগে… মুসলিম পর্যটক ও ভূগোলবিদরা তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে। তাদের লেখায় তারা তুলে ধরেছিলেন সেসময়কার মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও শহরগুলির বিবরণ। আবু মুহাম্মদ আল হাসান হামদানি, আবুল কাসিম ইবনু হাওকাল, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খোরদাদবেহ, মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ শামসুদ্দিন আল মাকদিসি প্রমুখের লেখায় আমরা পাই সে সময়কার এক নিখুঁত বিবরণ। তারা লিখেছেন, মুসলমানরা তাদের শহরগুলিতে প্রচুর উদ্যান ও নহর নির্মাণ করত। শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত এসব নহর (লেক)। পাশেই থাকতো মনোরম উদ্যান। বিকেল কিংবা অবসরে…

মৃত্যুর আগে খলিফা মামুনের অসিয়ত ছিল, যেভাবেই হোক বিদ্রোহী বাবাক খুররামিকে শায়েস্তা করতে হবে। মামুন নিজে বহুবছর চেষ্টা করেছেন বাবাককে দমন করতে, কিন্তু তিনি সফল হননি, বরং হারিয়েছেন নিজের বিখ্যাত সেনাপতিদের অনেককে। পরবর্তী খলিফা মু’তাসিম বিল্লাহ শাসনক্ষমতা পেয়েই বাবাকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। ২২২ হিজরির দিকে বাবাক কোণঠাসা হয়ে যায়। সে রোমান সম্রাট তোফাইল বিন মিখাইলকে পত্র লিখে আব্বাসি সাম্রাজ্যে হামলার আহ্বান করে। বাবাকের পত্রের ভাষ্য ছিল এমন–‘খলিফার বাহিনী এখন আমাকে নিয়ে ব্যস্ত। এই সুযোগ কাজে…

শাকহাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৭০২ হিজরির ২ রমাদানে। খ্রিস্টিয় হিসেবে সময়টা ছিল ২০ এপ্রিল ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দ। যুদ্ধের পটভূমির সূচনা হয় ৭০২ হিজরির রজব মাসে, যখন হালাব থেকে কায়রোতে একটি পত্র আসে। এই পত্র এসেছিল সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের নামে। পত্রে লেখা ছিল, তাতারসম্রাট মাহমুদ গাযান তার বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন পত্র পড়ে চিন্তিত হলেন। মাহমুদ গাযান তাতার ইলখানাতের সম্রাট। তিন বছর আগে থার্ড ব্যাটল অব হোমসে মামলুক বাহিনী পরাজিত হয়েছিল মাহমুদ গাযানের…

বাসায় ফেরার পথে শুনলাম পাশে কোথাও ওয়াজ হচ্ছে। একবার ভাবলাম যাবো, পরে আবার মত বদলাই। কদিন ধরে জ্বরে ভুগছি। শরীর বেশ দূর্বল। এই ভেবে আর গেলাম না। এক সময় প্রচুর ওয়াজ শুনেছি। অন্তত এদেশের প্রসিদ্ধ বক্তাদের কারো ওয়াজ শোনা বাকি নেই। সবচেয়ে ভালো লাগতো শীতকালে, গ্রামাঞ্চলে ওয়াজ শুনতে। মামাতো ভাইদের সাথে দলবেধে তিন চার মাইল দূরে চলে যেতাম ওয়াজ শুনতে। শেষ বিকেলে নামতো হালকা কুয়াশা। ফসলের মাঠে পেরিয়ে দুরের গ্রামগুলো ঝাপসা হয়ে যেত। খালের পানিতে মৃদু আলোড়ন। আমরা মাটির রাস্তা…

ইতিহাস কী ও কেন? প্রশ্নটা মাথার ভেতর ঘুরঘুর করছিল অনেকদিন থেকেই। ইতিহাস বলতে আমরা বুঝি অতীতের ঘটনাবলীর বিবরণ, রাজাগজাদের কেচ্ছাকাহিনী। কিন্তু ইতিহাস বলতে আসলে কী বোঝায়? ঐতিহাসিকরা ইতিহাস বলতে কী বোঝেন? বিষয়টা ভাবাচ্ছিল। ইতিহাসের সংজ্ঞা জানতে দারস্থ হই ইবনে খালদুনের (১)। ভেবেছিলাম ইবনে খালদুন ভারিক্কি চালে ভাবগম্ভীর কোনো সংজ্ঞা দিবেন। নাহ, তিনি দেখি সাদাসিধে ভাবেই লিখেছেন, ইতিহাস মূলত অতীতকালের ঘটনাবলী ও রাষ্ট্রসমূহের বিবরণ। (২) ইবনে খালদুনের সংজ্ঞা পাওয়ার পর আর কোনো সংজ্ঞা না দেখলেও চলে। তবু মনে একটু খুঁতখুঁত তো…

আমবাগানের ভেতর দিয়ে একটা পায়ে হাটা পথ চলে গেছে । তালহা ভাই বললেন, মাদরাসাটা এদিকেই। আমরা বাগানের ভেতর ঢুকি। এখন আমের মৌসুম। প্রচুর আম ধরেছে। বাতাসে কেমন একটা অচেনা সুবাস। বাতাস স্থির হয়ে আছে। আজ খুব গরম পড়ছে, দরদর করে ঘামছি সবাই, ঘামের স্রোত গলা থেকে বুকের দিকে নেমে যায়, মনে হচ্ছে জামার ভেতর তেলাপোকা হাটছে। জায়গাটা নির্জন, আশপাশে বাড়িঘরও নেই, দূরে মাঠে একজন কৃষককে কাজ করতে দেখা যায়, তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় শালিক পাখি। একটু দূরে, গাছের…

মূল: আব্দুস সালাম নদভী অনুবাদ: ইমরান রাইহান ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকরা নানাভাবে জনকল্যাণের দিকে খেয়াল রাখতেন। তাদের এমনই কিছু্ উদ্যোগ নিয়ে এই প্রবন্ধ। হাসপাতাল মুসলিম শাসকদের মধ্যে ফিরোজ শাহ তুঘলক (সিংহাসন আরোহণকাল ৭৫২ হিজরী) সর্বপ্রথম একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এই হাসপাতালকে তখন সিহহত খানা বলা হতো। সুলতান এই হাসপাতালের জন্য কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকেই রোগীদের ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হতো। হাসপাতালের ব্যয় বহনের জন্য সুলতান বেশকিছু জমি ওয়াকফ করে দেন। (১) তারীখে ফিরোজশাহীতে শুধু এই একটি হাসপাতালের উল্লেখ আছে।…

মূল: আবু জাফর নদভী ভাষান্তর: ইমরান রাইহান আজকাল ভারতবর্ষে যে হারে কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেখে কেইবা ভাববে এক যুগে এখানে কাগজের প্রচলনই ছিল না। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ এলাকায় কাগজের পরিবর্তে অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা হতো। লেখালেখির প্রয়োজন হলে ভুজ পাথর, খেজুরের পাতা, তাল গাছের পাতা, রেশমী কাপড়, তামা ইত্যাদীর উপর লেখা হতো। পাথরের উপর লেখা সম্রাট অশোকের একটি ফরমান এখনো টিকে আছে। মুম্বাই মিউজিয়ামে আছে তামার উপর লেখা একটি পত্র। এ বিষয়ে ঐতিহাসিকরাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাদীম লিখেছেন, আরবরা সাধারনত…

মসুলে একটি লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আবুল কাসেম জাফর বিন হামদান মোসুলি (মৃত্যু ৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী। তার লাইব্রেরীতে দর্শন ও জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত প্রচুর বই ছিল। লাইব্রেরী প্রতিদিন খোলা হতো। দূর থেকে আসা লোকদের জন্য ছিল থাকার ব্যবস্থা। একটা নির্দিষ্ট স্থান ছিল, যেখানে আবুল কাসেম জাফর ইমলার দরস দিতেন তার লিখিত বইপত্র (যেমন আল বাহের ফিল আখবার) , ফিকহ, কবিতা ও ইতিহাসের ঘটনাবলী থেকে। শুধু আবুল কাসেম জাফরই নন, এমন গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম শাসক, আমীর ও আলেম-উলামাদের অনেকেই।…

মূল: খাজা হাসান নিজামী অনুবাদ: ইমরান রাইহান (খাজা হাসান নিজামির জন্ম দিল্লীতে, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আলী হাসান নিজামি। তবে পরে তিনি খাজা হাসান নিজামি নামেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফী দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভী, মুফতি এলাহি বখশ কান্ধলভী, মুফতি রশিদ আহমদ গাংগুহি। খাজা হাসান নিজামির বাল্যকাল কেটেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘল শাহজাদাদের সাথে। তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন ১৮৫৭ সালের ইতিহাস জানতে। ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘলদের নিয়ে রচিত…