Category

অনুবাদ

Category

হাজার বছর আগে… মুসলিম পর্যটক ও ভূগোলবিদরা তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে। তাদের লেখায় তারা তুলে ধরেছিলেন সেসময়কার মুসলিমদের জীবনযাত্রা ও শহরগুলির বিবরণ। আবু মুহাম্মদ আল হাসান হামদানি, আবুল কাসিম ইবনু হাওকাল, আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খোরদাদবেহ, মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ শামসুদ্দিন আল মাকদিসি প্রমুখের লেখায় আমরা পাই সে সময়কার এক নিখুঁত বিবরণ। তারা লিখেছেন, মুসলমানরা তাদের শহরগুলিতে প্রচুর উদ্যান ও নহর নির্মাণ করত। শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত এসব নহর (লেক)। পাশেই থাকতো মনোরম উদ্যান। বিকেল কিংবা অবসরে…

মূল – রিয়াসত আলী নদভী (র) সংক্ষিপ্ত অনুবাদ — ইমরান রাইহান। ——————————————————– (মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মাহবুবুল মুরসালিন, তানভীর রাজ, তানভীর মুহতাসিমসহ আরো কয়েকজন ভাই। এ বিষয়ে রিয়াসত আলী নদভী রচিত ‘ইসলামি নেজামে তালিম’ বইটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু সমৃদ্ধ। মূল বইটি অনুবাদ করা সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই আপাতত, মূল বইয়ের সারকথা অনুবাদ করে দিচ্ছি। এই লেখাটি বইয়ের হুবহু অনুবাদ নয়। শুধু বইয়ের মূল তথ্যগুলো অনুবাদ করেছি। কোথাও রেফারেন্স বা অতিরিক্ত তথ্য যোগ করতে হলে তা টীকায় সংযুক্ত করেছি।…

মূল: মানাজির আহসান গিলানী র. রুপান্তর: ইমরান রাইহান (মানাজির আহসান গিলানীর জন্ম বিহারের গিলান নামক গ্রামে, ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে। পড়াশোনা করেছেন দারুল উলুম দেওবন্দে। তার উস্তাদদের মধ্যে আছেন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী, আল্লামা শিব্বির আহমদ উসমানী, মুফতি আজিজুর রহমানের মত বরেন্য আলেমগন। আল্লাহ তাকে অসাধারণ লেখনি শক্তি দান করেছিলেন। ইতিহাসে তার ব্যাপক পড়াশোনা ছিল। বিশেষ করে ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে লিখিত ‘হিন্দুস্তান মে মুসলমানো কা নেজামে তালিম ও তরবিয়ত’ বইটি তার অবিস্মরনীয় কীর্তি। এছাড়া ‘আন নাবিয়্যুল খাতিম’ ‘ইমাম আবু হানিফা কি সিয়াসি…

মূল: আল্লামা শিবলী নোমানী অনুবাদ: ইমরান রাইহান (আল্লামা শিবলী নোমানীর জন্ম ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে, ভারতের আযমগড়ে। তিনি প্রথমে মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক সিয়ারাকোটির কাছে বিভিন্ন বিষয় পড়েন। পরে আরবে গমন করে বিভিন্ন শাস্ত্রে পড়াশোনা করেন। দেশে ফিরে তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মৃত্যুর পর তিনি আলীগড় থেকে চলে আসেন। কিছুকাল হায়দারাবাদে অবস্থান করেন। পরে তিনি আযমগড়ে দারুল মুসান্নেফিন প্রতিষ্ঠা করেন। গত শতাব্দীর শুরুতে ভারতীয় মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান অবিস্মরনীয় অবদান রাখে। ইতিহাস বিষয়ে আল্লামা…

মূল: আব্দুস সালাম নদভী অনুবাদ: ইমরান রাইহান ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকরা নানাভাবে জনকল্যাণের দিকে খেয়াল রাখতেন। তাদের এমনই কিছু্ উদ্যোগ নিয়ে এই প্রবন্ধ। হাসপাতাল মুসলিম শাসকদের মধ্যে ফিরোজ শাহ তুঘলক (সিংহাসন আরোহণকাল ৭৫২ হিজরী) সর্বপ্রথম একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এই হাসপাতালকে তখন সিহহত খানা বলা হতো। সুলতান এই হাসপাতালের জন্য কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ দেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকেই রোগীদের ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হতো। হাসপাতালের ব্যয় বহনের জন্য সুলতান বেশকিছু জমি ওয়াকফ করে দেন। (১) তারীখে ফিরোজশাহীতে শুধু এই একটি হাসপাতালের উল্লেখ আছে।…

মূল: আবু জাফর নদভী ভাষান্তর: ইমরান রাইহান আজকাল ভারতবর্ষে যে হারে কাগজ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেখে কেইবা ভাববে এক যুগে এখানে কাগজের প্রচলনই ছিল না। ভারতবর্ষের বেশিরভাগ এলাকায় কাগজের পরিবর্তে অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করা হতো। লেখালেখির প্রয়োজন হলে ভুজ পাথর, খেজুরের পাতা, তাল গাছের পাতা, রেশমী কাপড়, তামা ইত্যাদীর উপর লেখা হতো। পাথরের উপর লেখা সম্রাট অশোকের একটি ফরমান এখনো টিকে আছে। মুম্বাই মিউজিয়ামে আছে তামার উপর লেখা একটি পত্র। এ বিষয়ে ঐতিহাসিকরাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে নাদীম লিখেছেন, আরবরা সাধারনত…

মূল: খাজা হাসান নিজামী অনুবাদ: ইমরান রাইহান (খাজা হাসান নিজামির জন্ম দিল্লীতে, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মের পর তার নাম রাখা হয় আলী হাসান নিজামি। তবে পরে তিনি খাজা হাসান নিজামি নামেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সুফী দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক। তার শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভী, মুফতি এলাহি বখশ কান্ধলভী, মুফতি রশিদ আহমদ গাংগুহি। খাজা হাসান নিজামির বাল্যকাল কেটেছে ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘল শাহজাদাদের সাথে। তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেন ১৮৫৭ সালের ইতিহাস জানতে। ভাগ্যবিড়ম্বিত মুঘলদের নিয়ে রচিত…

মূল : শায়খ আবদুল হাই হাসানি নদভী রুপান্তর : ইমরান রাইহান (প্রথম পর্ব) ভারতবর্ষে বরাবরই ইতিহাসচর্চায় আগ্রহ- উদ্দীপনা ছিল। এখানকার লেখকরা তাই রাজন্যবর্গের শাসনকাল ও তাদের যুদ্ধ-বিগ্রহের ইতিহাস সংরক্ষনে কলম ধরেছেন। তারা আলেম, সুফী, কবি, চিকিৎসকদের জীবনি নিয়েও বইপত্র লিখেছেন, যদিও জন্মতারিখ ও মৃত্যুতারিখ উল্লেখের ক্ষেত্রে তারা বরাবরই উদাসীন ছিলেন। তারা লিখেছেন বেশী ফার্সিতে, হিন্দিতেও কম লিখেন নি, এমনকি লিখেছেন আরবীতেও। এ সকল বইপত্রের এক বিরাট অংশই লেখা হয়েছে শাসকদের জীবনি ও শাসনকাল নিয়ে। চলুন এ ধারার কিছু গ্রন্থের নাম…

মূল : গোলাম রসুল মেহের অনুবাদ: ইমরান রাইহান (লেখক পরিচিতি : গোলাম রসুল মেহেরের জন্ম ১৩ এপ্রিল ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে , ভারতের জলান্ধরে। জলান্ধর মিশন হাই স্কুল ও লাহোর ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। ব্যক্তিজীবনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন।গালিব ও ইকবাল নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘জামাতে মুজাহেদিন’ ‘নকশে আজাদ’ ‘মেহের বিতী’ ‘গালিব’ ‘মাতালিবে বালে জিব্রিল’। ১৬ নভেম্বর ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে তিনি লাহোরে ইন্তেকাল করেন) প্রারম্ভিকা ১৮৫৭ সালে দিল্লীর প্রতিটি ঘটনাই ছিল মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। তবে শাহজাদাদের নির্মম হত্যাকান্ড…

মূল : শায়খ হাবিবুর রহমান আজমী রহ. রুপান্তর : ইমরান রাইহান ১। সুলতান শামসুদ্দিন আলতামাশ ৬০৭ হিজরী থেকে ৬৩৩ হিজরী পর্যন্ত ভারতবর্ষ শাসন করেন। খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকীর মালফুজাত ‘ফাওয়ায়েদুস সালেকিনে’ তার প্রশংসা করা হয়েছে।ফা ওয়ায়েদুস সালেকিনের ভাষ্যমতে, তিনি সআধারণত রাতে ঘুমাতেন না। কখনো ঘুম এলে একটু পরেই সজাগ হয়ে যেতেন। উঠে অযু করে নামাজ পড়তেন। চাকর-বাকর কাউকে ডাকতেন না। বলতেন, যারা আরামের ঘুমে আছে তাদের কষ্ট দেয়ার কী দরকার? কখনো কখনো রাতের বেলা আশরাফী ভর্তি থলে নিয়ে রাজধানীর অলিগলিতে…